
১. ইবলিস (Iblis): তিনি প্রথম জিন এবং জিন জাতির পিতা, যেমন আদম (আ.) মানবজাতির পিতা। তিনি অত্যন্ত অহংকারী এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার পর থেকে মানুষকে পথভ্রষ্ট করাই তার প্রধান কাজ।
২. জন্ন (Jann): এদের জিনদের আদি পুরুষ বা পূর্বপুরুষ বলা হয়। এরা সাধারণত দুর্বল শ্রেণির জিন হিসেবে পরিচিত এবং সাপের রূপ ধারণ করতে পছন্দ করে।
৩. ইফরিত (Ifrit): এরা অত্যন্ত শক্তিশালী, ধূর্ত এবং বিশালাকার জিন। এরা আগুনের সাথে সম্পর্কিত এবং লোককাহিনী অনুযায়ী এরা অসম্ভবকে সম্ভব করা বা কঠিন কাজ সম্পাদনে পটু।
৪. মারিদ (Marid): জিনদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও অবাধ্য জাতি। এদের সাধারণত সমুদ্র বা জলের সাথে সম্পর্কিত মনে করা হয় এবং এরা মানুষের আদেশ মানতে নারাজ থাকে।
৫. গুল (Ghul/Ghoul): এরা সাধারণত শ্মশান, কবরস্থান বা পরিত্যক্ত নির্জন স্থানে বাস করে। এরা রূপ পরিবর্তন করতে পারে এবং মানুষকে পথ ভুলিয়ে নির্জনে নিয়ে হত্যা বা ভক্ষণ করার চেষ্টা করে।
৬. সিলাত বা সিলা (Sila/Silat): এরা জিনদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান এবং দ্রুত রূপ পরিবর্তনকারী হিসেবে পরিচিত। এরা নারীদের রূপ ধারণ করে মানুষের সাথে মিশে যেতে পারে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পটু।
৭. শয়তান (Shaytan): এরা মূলত সেই সব অবাধ্য জিন যারা ইবলিসের অনুসারী। এদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে পাপ কাজে প্রলুব্ধ করা এবং সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া।
৮. কারিন (Qarin): জন্মের পর থেকেই প্রতিটি মানুষের সাথে একজন করে জিন নিযুক্ত থাকে, যাকে ‘হামজাদ’ বা কারিন বলা হয়। এরা মানুষের মনে কুচিন্তা বা কুমন্ত্রণা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
৯. হিন্ন (Hinn): এরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রকৃতির জিন। লোককথা অনুযায়ী, এরা সাধারণত কুকুর বা পশুর বেশ ধরে চলাফেরা করতে পছন্দ করে।
১০. নাসনাস (Nasnas): এদের অদ্ভুত শারীরিক গঠন থাকে বলে মনে করা হয়—যেমন অর্ধেক মুখ বা অর্ধেক হাত-পা। এরা মূলত মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য পরিচিত।


